Posts

Showing posts from October, 2025

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

Image
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ সালের ১২ই সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার মুরারিপুর গ্রামে মামাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন । তাঁর পিতৃনিবাস একই জেলার ব্যারাকপুর গ্রামে । বিভূতিভূষণের বাল্য ও কৈশোরকাল কাটে অত্যন্ত দারিদ্র্যে। কিন্তু তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র। ১৯১৪ সালে ম্যাট্রিক ও ১৯১৬ সালে আইএ- উভয় পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে এবং ১৯১৮ সালে ডিস্টিংশনসহ বিএ পাস করেন। তিনি দীর্ঘদিন স্কুলে শিক্ষকতা করেছেন এবং এর পাশাপাশি শহর থেকে দূরে অবস্থান করে নিরবচ্ছিন্ন সাহিত্যসাধনা করেছেন। বাংলার প্রকৃতি ও মানুষের জীবনকে তিনি তাঁর অসাধারণ শিল্পসুষমাময় ভাষায় সাবলীল গদ্যে প্রকাশ করেছেন। মানুষকে তিনি দেখেছেন গভীর মমত্ববোধ ও নিবিড় ভালোবাসা দিয়ে। তাঁর গদ্য কাব্যময় ও চিত্রাত্মক বর্ণনায় সমৃদ্ধ । বিভূতিভূষণের কালজয়ী যুগল উপন্যাস  'পথের পাঁচালী',  'অপরাজিতা।  তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে  'আরণ্যক',  'দেবযান' ও  'ইছামতি';  গল্পগ্রন্থ:  'মেঘমল্লার',  'মৌরীফুল', রয়েছে- উপন্যাস : দৃষ্টি... 'যাত্রাবদল...

কাজী মোতাহার হোসেন

Image
কাজী মোতাহার হোসেন কাজী মোতাহার হোসেনের জন্য ১৮৯৭ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ জুলাই কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালি উপজেলার লক্ষ্মীপুরে। তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল বৃহত্তর ফরিদপুরের রাজবাড়ি জেলার পাংশা উপজেলার বাগমারা গ্রামে। তাঁর পিতার নাম কাজী গওহর উদ্দীন আহমদ, মায়ের নাম তসিরুন্নেসা। পদার্থবিজ্ঞানের কৃতী ছাত্র মোতাহার হোসেন কর্মজীবনে অধ্যাপনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে । ১ ৯৭৫ সালে 'জাতীয় অধ্যাপক' পদে ভূষিত হওয়া প্রথম তিনজনের অন্যতম ছিলেন তিনি। বিশ ও ত্রিশের দশকে ঢাকায় 'বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন' নামে পরিচিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের তিনি ছিলেন অন্যতম সংগঠক এবং ওই আন্দোলনের মুখপত্র বিখ্যাত "শিখা' পত্রিকার অন্যতম সম্পাদক। মননশীল লেখক কাজী মোতাহার হোসেন ছিলেন একাধারে বিজ্ঞানী ও সাহিত্যিক। তিনি বিজ্ঞান, ধর্ম, ইতিহাস, সাহিত্য, সংগীত ইত্যাদি নিয়ে অনেক তথ্যসমৃদ্ধ মননশীল প্রবন্ধ লিখেছেন।  তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হচ্ছে-  প্রবন্ধ সংকলন:  'সঞ্চরন' ও  'নির্বাচিত প্রবন্ধ';  সমালোচনাগ্রন্থ :  'নজরুল কাব্য পরিচিতি';  পাঠ্য বিজ্ঞানগ্রন্থ :  'গণিত শাস্...

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৮ খ্রিষ্টাব্দের ২৬শে জুন পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাংলা ভাষায় প্রথম শিল্পসম্মত উপন্যাস রচনার কৃতিত্ব তাঁরই। তাঁর পিতা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ছিলেন ডেপুটি কালেক্টর। ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিএ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রথম স্নাতকদের মধ্যে তিনি একজন। পেশাগত জীবনে তিনি ছিলেন ম্যাজিস্ট্রেট। চাকরিসূত্রে খুলনার ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগদান করে তিনি নীলকরদের অত্যাচার দমন করেছিলেন। দায়িত্ব পালনে তিনি ছিলেন নিষ্ঠাবান, যোগ্য বিচারক হিসেবেও তাঁর খ্যাতি ছিল। বাংলা সাহিত্যচর্চায় অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছিলেন তিনি। উপন্যাস ও প্রবন্ধ রচনার বাইরে 'বঙ্গদর্শন' (১৮৭২) পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ তাঁর অন্যতম কীর্তি । ১৮৫২ খ্রিষ্টাব্দে 'সম্বাদ প্রভাকর' পত্রিকায় কবিতা প্রকাশের মাধ্যমে তাঁর সাহিত্যচর্চার শুরু । বঙ্কিমচন্দ্রের গ্রন্থসংখ্যা ৩৪ । তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।   তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হলো :  'কপালকুণ্ডলা',  'মৃণালিনী...

আবু জাফর শামসুদ্দীন

Image
  আবু জাফর শামসুদ্দীন আবু জাফর শামসুদ্দীনের জন্ম বৃহত্তর ঢাকার গাজীপুর জেলার কালিগঞ্জে ১৯১১ খ্রিষ্টাব্দের ১১ই মার্চ। প্রতিষ্ঠানিকভাবে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ না করলেও তিনি ছিলেন স্বশিক্ষিত। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি সরকারি চাকরিও করেছেন। সমাজ-সচেতন ও রাজনীতি-সচেতন ব্যক্তি হিসেবে তিনি ছিলেন সংস্কারমুক্ত, প্রগতিকামী ও মুক্তবুদ্ধিসম্পন্ন। বাংলাদেশের অগ্রগণ্য কথাসাহিত্যিক আবু জাফর শামসুদ্দীন পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় ধরে সাহিত্যসাধনায় ব্রতী ছিলেন। কেবল গল্পকার ও ঔপন্যাসিক হিসেবে তিনি পরিচিত নন; তিনি নাটক লিখেছেন, অনুবাদ করেছেন প্রখ্যাত সাংবাদিক হিসেবেও তিনি সুপরিচিত। তিনি বাংলাদেশের সাহিত্য অঙ্গনে বিশেষ পরিচিত ও আলোচিত হন 'ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান' নামের উপন্যাস লিখে। তাঁর অন্যান্য উপন্যাস হচ্ছে : 'পদ্মা মেঘনা যমুনা', 'সংকর সংকীর্তন', 'প্রপঞ্চ', 'দেয়াল'। তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ হচ্ছে : 'শেষ রাত্রির তারা', 'এক জোড়া প্যান্ট ও অন্যান্য', 'রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা', 'আবু জাফর শামসুদ্দীনের শ্রেষ্ঠ গল্প', ইত্যাদি। তাঁর রচিত ...

সৈয়দ মুজতবা আলী

Image
  সৈয়দ মুজতবা আলী সৈয়দ মুজতবা আলী ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দের ১৩ই সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল আসামের করিমগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস বৃহত্তর সিলেট জেলার। তাঁর পিতার নাম সৈয়দ সিকান্দার আলী। মুজতবা আলীর শিক্ষাজীবনের অধিকাংশ সময় কেটেছে শান্তিনিকেতনে। তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৬ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। জার্মানির বন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। আফগানিস্তানের কাবুলে কৃষিবিজ্ঞান কলেজে কিছুকাল অধ্যাপনা করেন তিনি। এছাড়াও দেশে-বিদেশে বহুস্থানে তিনি কর্মসূত্রে গমন করেছেন। আরবি, ফারসি, সংস্কৃত, ফরাসি, জার্মানসহ বিভিন্ন ভাষায় তাঁর দক্ষতা ছিল। তিনি ছিলেন রবীন্দ্রসাহিত্যের বিশেষ অনুরাগী। তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বে তাঁর ছিল বিশেষ পাণ্ডিত্য। সাহিত্যিক রসবোধ সৈয়দ মুজতবা আলীর রচনার মুখ্য প্রবণতা। তাঁর রচনায় বিচিত্র জীবনপ্রবাহের নানা অনুষঙ্গ কৌতুক ও ব্যঙ্গে রসাবৃত হয়ে উপস্থাপিত হয়।  সৈয়দ মুজতবা আলীর উল্লেল্লখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে  'দেশে বিদেশে',  'পঞ্চতন্ত্র',  'চাচাকাহিনি',  'শবনম',  'কত না অশ্রুজল' গন্তব্য কাবুল...

সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম

Image
 সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ১৯৭৪ সালে ‘ বিচিত্রা' য় প্রকাশিত ‘ বিশাল মৃত্যু ’ গল্প দিয়ে ছোটগল্পকার হিসেবে আত্মপ্রকাশ সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের । এরপর বিরতি দিয়ে ফের আশির দশকে আবার গল্প লেখা শুরু করেন তিনি । গল্পগ্রন্থসহ তাঁর সাহিত্য সমালোচনা , নন্দনতত্ত্ব ও প্রবন্ধের বই বেরিয়েছে ।  তাঁর বইয়ের মধ্যে রয়েছে - ‘ নন্দনতত্ত্ব ’   ‘ নন্দীছড়ার যোদ্ধারা ,  ‘ একাত্তর ও অন্যান্য গল্প ’ ,  ‘ দেখা অদেখার গল্প ' ,  ‘ কানাগলির মানুষেরা ' ইত্যাদি। ২০০৫ সালে প্রকাশিত ' প্রেম ও প্রার্থনার গল্প ' প্রথম আলো বর্ষসেরা বইয়ের পুরস্কার লাভ করে।  ১৯৯৬ সালে সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।  বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ২০১৬ সালে কাজী মাহবুবউল্লাহ পুরস্কারেও ভূষিত হন।  ২০১৮ সালে পান একুশে পদক।

দ্বিজ কানাই

Image
দ্বিজ কানাই মহুয়া মধ্যযুগের কবি দ্বিজ কানাই পূর্ব ময়মনসিংহ অঞ্চলের অধিবাসী। দল গঠন করে তিনি তৎকালীন লোকনাট্যরীতিতে নাটকের অভিনয় করিয়েছিলেন। দ্বিজ কানাই এক অসবর্ণ তরুণীর প্রতি প্রণয়াসক্ত হয়ে গভীর দুঃখ ভোগ করেন বলে শোনা যায়। দীনেশচন্দ্র সেনের অনুমান অনুযায়ী, তিনি সতেরো শতকের কবি । তাঁর সম্পর্কে যে প্রবাদ প্রচলিত তাতে জানা যায়, তিনি বর্ণবিভক্ত সমাজে উচ্চবর্ণ তথা ব্রাহ্মণশ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হলেও নিম্নবর্ণ অর্থাৎ শূদ্রশ্রেণির প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন । 'মহুয়া' পালা রচনায় তাঁর যে উদারনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ ঘটেছে তার মূলে তাঁর ব্যক্তি জীবনের সংস্কারমুক্ত মানবিক বোধ সক্রিয় বলে ধারণা করা হয়। মহুয়া - দ্বিজ কানাই

মারিয়া কোরিনা মাচাডো (MARÍA CORINA MACHADO) শান্তিতে নোবেল বিজয়ী

Image
মারিয়া কোরিনা মাচাদো সম্পর্কে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিচে দেওয়া হলো: ১. নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী: তিনি ২০২৫ সালে গণতন্ত্রের অধিকার ও শান্তিপূর্ণ পরিবর্তনের জন্য দীর্ঘ ও সাহসী সংগ্রামের স্বীকৃতিস্বরূপ নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন। ২. ভেনেজুয়েলার রাজনীতিবিদ ও শিল্প প্রকৌশলী: তিনি একজন ভেনেজুয়েলীয় রাজনীতিবিদ এবং শিল্প প্রকৌশলী। ৩. জন্ম: তিনি ১৯৬৭ সালের ৭ অক্টোবর কারাকাসে (ভেনেজুয়েলা) জন্মগ্রহণ করেন। ৪. বিরোধী নেত্রী: তিনি উগো চাভেস এবং নিকোলাস মাদুরোর সরকারের একজন বিশিষ্ট বিরোধী নেত্রী হিসেবে পরিচিত। ৫. জাতীয় পরিষদের সদস্য: তিনি ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ৬. রাজনৈতিক দল: তিনি ভেনেজুয়েলার বিরোধীদল ভেন্তে ভেনেজুয়েলার নেতা এবং এই উদার-রাজনৈতিক দলটির একজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। ৭. প্রারম্ভিক সংগঠন: তিনি ২০০২ সালে স্বেচ্ছাসেবী নাগরিক সংগঠন "সুমাতে" (Súmate)-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন, যা মুক্ত ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পক্ষে প্রচারণা চালাত। ৮. প্রেসিডেন্ট প্রার্থীতা বাতিল: ২০২৪ সালের রাষ্ট্রপতি নির্ব...

পরাগায়নের প্রভাবক

Image
৪৯তম বি.সি.এস লিখিত পরীক্ষা (শিক্ষা) -২০২৫ এর MCQ  টাইপ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ( কৃষি - ৮০১ )  ধানের পরাগায়নের সময় কোন ফ্যাক্টরটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ?  উত্তর : তাপমাত্রা  ব্যাখ্যা :  পরাগায়নের প্রধান প্রভাবকগুলো হলো পরাগায়নের মাধ্যম (যেমন – বায়ু, পানি, পোকামাকড়, পাখি, বাদুড়), ফুলের গঠন এবং রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য, এবং পরিবেশগত কারণ (যেমন – তাপমাত্রা, খরা)। পরাগায়নের সময় ও কৌশলও গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে যখন হাতে পরাগায়নের প্রয়োজন হয়।   পরাগায়নের মাধ্যম বায়ু: অনেক উদ্ভিদ পরাগায়নের জন্য বায়ুর উপর নির্ভর করে, যেমন – ঘাস এবং অনেক শস্য।  পানি: কিছু জলজ উদ্ভিদ পরাগায়নের জন্য পানির উপর নির্ভর করে।  কীট-পতঙ্গ: মৌমাছি, প্রজাপতি এবং অন্যান্য পোকামাকড় ফুলের রেণুকে এক ফুল থেকে অন্য ফুলে বহন করে নিয়ে যায়।  প্রাণী: পাখি, বাদুড় এবং অন্যান্য ছোট প্রাণী পরাগায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।  মানুষ: কিছু ক্ষেত্রে, মানুষ সরাসরি হাত পরাগায়ন করে।  ফুলের বৈশিষ্ট্য ফুলের গঠন: ফুলের গঠন পরাগায়নের মাধ্যমকে প্রভাবিত করে। উদাহরণস্বরূপ, কিছু ফুল...

আবদুল হক

Image
  আবদুল হক বাংলাদেশের প্রবন্ধসাহিত্যের অন্যতম খ্যাতিমান পুরুষ আবদুল হক। বর্তমান চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর থানার উদয়নগর গ্রামে ১৯১৮ সালের ১০ই অক্টোবর মাসে তাঁর জন্ম। তাঁর পিতার নাম সহিমুদ্দিন বিশ্বাস এবং মাতার নাম সায়েমা খাতুন। দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে তাঁকে শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখতে হয়েছে। তিনি কানসাট, টাঙ্গাইল, রাজশাহী ও কলকাতায় পড়াশোনা করেন। সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের পর তিনি সবশেষে বাংলা একাডেমির পরিচালক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। পাকিস্তান-পর্বে আবদুল হক বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনা নিয়ে ক্ষুরধার লেখা লিখে কলম সৈনিক ' উপাধি লাভ করেন। রাষ্ট্রভাষা বাংলার পক্ষে ১৯৪৭-পূর্বকালেই তিনি কলম ধরেন এবং এ বিষয়ক প্রথম লেখক হিসেবে স্বীকৃতি পান। সরকারি কর্মচারী হয়েও বেনামে সরকারবিরোধী লেখায় তিনি যে সাহসিকতা প্রদর্শন করেন তা দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। মুক্তবুদ্ধি, বিজ্ঞানমনস্কতা, শানিত যুক্তি, বক্তব্যের সাবলীল উপস্থাপন প্রভৃতি তাঁর রচনার বৈশিষ্ট্য। বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের তিনি এক যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচিত হন। প্রবন্ধ রচনা ছাড়াও তিনি লিখেছেন কবিতা, ছোটগল্প, ...

শওকত ওসমান

Image
  শওকত ওসমান শওকত ওসমানের প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান । শওকত ওসমান তাঁর সাহিত্যিক নাম। তাঁর জন্ম ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দের দোসরা জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবল সিংহপুরে । বাংলাদেশের বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার ও প্রাবন্ধিক শওকত ওসমানের সাহিত্যকর্ম তাঁর তীক্ষ্ণ সমাজসচেতন ও প্রগতিশীল ভাবধারার শৈল্পিক ফসল। শওকত ওসমান দীর্ঘদিন সরকারি কলেজে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে অধ্যাপনা করেছেন। শিক্ষকতার আগে তিনি বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। শওকত ওসমান গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক, রম্যরচনা, অনুবাদ ও শিশুতোষ রচনাসহ আশিটিরও বেশি বই লিখেছেন। তাঁর রচনাবলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে :  উপন্যাস 'বনি আদম', 'জননী',  'ক্রীতদাসের হাসি',  'চৌরসন্ধি',  'রাজা উপাখ্যান',  নেকড়ে অরণ্য',  'পতঙ্গ পিঞ্জর',  'জাহান্নাম হইতে বিদায়' ইত্যাদি  ছোটগল্পগ্রন্থ 'পিজরাপোল',  'প্রস্তর ফলক',  'জন্ম যদি তব বঙ্গে' ইত্যাদি ছোটগল্পগ্রন্থ।  'ক্রীতদাসের হাসি' তাঁর ব্যাপক আলোচিত একটি উপন্যাস।  সাহিত্যসাধনার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি বেশ কয়েকটি...

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

Image
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকায় ১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৯শে মে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক বাড়ি ঢাকার বিক্রমপুরে। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিতার নাম হরিহর বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মাতার নাম নীরদাসুন্দরী দেবী। তাঁর পিতৃপ্রদত্ত নাম প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় । ডাকনাম মানিক। বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার বিভিন্ন স্কুল ও কলেজে তিনি পড়াশোনা করেন। মাত্র আটচল্লিশ বছর তিনি বেঁচেছিলেন। কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে বি.এসসি. পড়ার সময়ে বিশ বছর বয়সে বন্ধুদের সঙ্গে বাজি ধরে তিনি প্রথম গল্প 'অতসীমামী' লিখে খ্যাতি অর্জন করেন। তারপর জীবনের বাকি আটাশ বছর নিরবচ্ছিন্নভাবে লিখে গেছেন। মাঝে বছর তিনেক তিনি চাকরি ও ব্যবসায়িক কাজে নিজেকে জড়িত রাখলেও বাকি পুরো সময়টাই তিনি সার্বক্ষণিকভাবে সাহিত্যসেবায় নিয়োজিত ছিলেন। উপন্যাস ও ছোটগল্পের লেখক হিসেবে মানিক বাংলা সাহিত্যে খ্যাতিমান। তিনি অল্প সময়েই প্রচুর গল্প-উপন্যাস সৃষ্টি করেন। সেই সঙ্গে লিখেছেন কিছু কবিতা, নাটক, প্রবন্ধ ও ডায়েরি। বিজ্ঞানমনস্ক এই লেখক মানুষের মনোজগৎ তথা অন্তর্জীবনের রূপকার হিসেবে সার্থকতা দেখিয়েছেন।...

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

Image
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ খ্রিষ্টাব্দের ২৬শে সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায় ও মাতার নাম ভগবতী দেবী । তাঁর বংশ পদবি বন্দ্যোপাধ্যায় , বিদ্যাসাগর তাঁর উপাধি। ঈশ্বরচন্দ্র নিজ গ্রামে পাঠশালার পাঠ শেষে আট বছর বয়সে পিতার সঙ্গে কলকাতায় আসেন। সেখানে শিবচরণ মল্লিকের বাড়ির পাঠশালায় এক বছর অধ্যয়ন সম্পন্ন করে তিনি ১৮২৯ খ্রিষ্টাব্দে সংস্কৃত কলেজে ভর্তি হন । এ কলেজে নিরবচ্ছিন্ন বারো বছর অধ্যয়ন করে তিনি ব্যাকরণ, কাব্য, অলংকার, বেদান্ত, স্মৃতি, ন্যায় ও জ্যোতিষশাস্ত্রে পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। সকল পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়ে লাভ করেন 'বিদ্যাসাগর' উপাধি। তিনি ১৮৪১ খ্রিষ্টাব্দে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাংলা বিভাগে হেড পণ্ডিত হিসেবে যোগদান করেন। পরে তিনি সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ পদে অধিষ্ঠিত হন। পরে সরকার কর্তৃক বিশেষ বিদ্যালয় পরিদর্শক নিযুক্ত হলে তাঁরই তত্ত্বাবধানে কুড়িটি মডেল স্কুল ও পঁয়ত্রিশটি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপিত হয়। নিজ অর্থ ব্যয়ে মেট্রোপলিটন কলেজ (অধুনা বিদ্যাসা...